ইতিহাস # প্রাচীন ও পরবর্তী বৈদিক যুগ” (Early & Later Vedic Period) #WBCSSC-এর দ্বিতীয় SLST পরীক্ষার জন্য

  1. ঋগ্বেদের প্রধান দেবতা কে ছিলেন?
    (A) ইন্দ্র
    (B) অগ্নি
    (C) বরুণ
    (D) সোম
    উত্তর: (A) ইন্দ্র
    ব্যাখ্যা: ইন্দ্র ছিলেন বৈদিক যুগের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় দেবতা। তিনি মূলত যুদ্ধ ও বৃষ্টির দেবতা হিসেবে পূজিত হতেন। ‘ঋগ্বেদ’-এ প্রায় ২৫০টিরও বেশি স্তোত্র ইন্দ্রকে নিবেদিত। তিনি ‘বৃত্র’ নামক অসুরকে বধ করে স্বর্গে দেবতাদের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন। বৈদিক আর্যদের যুদ্ধপ্রবণ সমাজে ইন্দ্রের মতো বীর দেবতার মাহাত্ম্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


  1. ঋগ্বেদের ভাষা কোনটি?
    (A) পালি
    (B) প্রাকৃত
    (C) বৈদিক সংস্কৃত
    (D) অপভ্রংশ
    উত্তর: (C) বৈদিক সংস্কৃত
    ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদ রচিত হয়েছিল বৈদিক সংস্কৃতে, যা ধ্রুপদি সংস্কৃতের পূর্ববর্তী রূপ। এই ভাষা ছিল মূলত সংস্কৃতের অলঙ্কারবিহীন একটি আদি রূপ, যার মধ্যে অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ ধ্বনি ও শব্দপ্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। বৈদিক সংস্কৃত ভাষা ভারতীয় ধর্মীয় ও দার্শনিক সাহিত্যের ভিত্তি স্থাপন করেছে।


  1. ঋগ্বেদে মোট কতটি মণ্ডল আছে?
    (A) ৯
    (B) ১০
    (C) ১২
    (D) ৭
    উত্তর: (B) ১০
    ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদে রয়েছে মোট ১০টি মণ্ডল বা অধ্যায়। এগুলোর মধ্যে ২য় থেকে ৭ম মণ্ডলকে “পারিবারিক মণ্ডল” বলা হয় কারণ এগুলিতে কিছু নির্দিষ্ট ঋষি বা ঋষিপরিবার কর্তৃক রচিত স্তোত্র সংকলিত রয়েছে। প্রথম ও দশম মণ্ডল অপেক্ষাকৃত পরবর্তী সময়ে সংযোজিত হয়েছে এবং এতে ধর্মীয় আচার, দার্শনিক ভাবনা ও সমাজসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।


  1. ঋগ্বেদের কোন মণ্ডল সবচেয়ে প্রাচীন বলে ধরা হয়?
    (A) প্রথম
    (B) দ্বিতীয়
    (C) তৃতীয়
    (D) সপ্তম
    উত্তর: (B) দ্বিতীয়
    ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় মণ্ডলকে অনেক গবেষক সবচেয়ে প্রাচীন মনে করেন কারণ এতে বৈদিক ধর্মের আদি স্তরের প্রতিফলন পাওয়া যায়। এই মণ্ডলে ঋষি গৃত্সমদ, কুত্স, ও অন্যান্য প্রাচীন ঋষিদের রচিত স্তোত্র রয়েছে, যেখানে মূলত প্রকৃতিদেবতাদের স্তব ও যজ্ঞের উল্লেখ রয়েছে।


  1. বৈদিক সভ্যতায় ‘সভা’ ও ‘সমিতি’ কী বোঝায়?
    (A) ধর্মীয় অনুষ্ঠান
    (B) প্রশাসনিক কর
    (C) দুটি বিধানসভা
    (D) দুই ধরনের দেবতা
    উত্তর: (C) দুটি বিধানসভা
    ব্যাখ্যা: ‘সভা’ ও ‘সমিতি’ ছিল বৈদিক যুগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। ‘সভা’ ছিল প্রবীণদের দ্বারা গঠিত এক ধরনের পরিষদ, যেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে আলোচনা হতো। অন্যদিকে, ‘সমিতি’ ছিল বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে গোত্র বা উপজাতির সদস্যরা রাজা নির্বাচন ও যুদ্ধবিষয়ক সিদ্ধান্ত নিতেন। এ দুটি পরিষদের অস্তিত্ব থেকেই পরবর্তীতে গণপরিষদের ধারণা তৈরি হয়।


  1. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘রাজন্য’ শব্দটি দ্বারা কাকে বোঝাত?
    (A) সাধারণ কৃষক
    (B) মন্ত্রপাঠক
    (C) যুদ্ধবীর অভিজাতগণ
    (D) শ্রমজীবী
    উত্তর: (C) যুদ্ধবীর অভিজাতগণ
    ব্যাখ্যা: ‘রাজন্য’ শব্দটি মূলত এসেছে ‘রাজা’ শব্দ থেকে। এটি বোঝাতে ব্যবহৃত হত সেই অভিজাত গোষ্ঠীকে যারা রাজা বা প্রধানের সহযোগী হিসেবে রাজকার্যে অংশগ্রহণ করত এবং যুদ্ধে নেতৃত্ব দিত। এরা মূলত ক্ষমতাশালী ক্ষত্রিয় গোষ্ঠীভুক্ত ছিলেন।


  1. ঋগ্বেদে ‘নদীসূক্ত’-এ কোন দুটি নদীকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে?
    (A) গঙ্গা ও যমুনা
    (B) সিন্ধু ও সরস্বতী
    (C) সরস্বতী ও গঙ্গা
    (D) যমুনা ও গোদাবরী
    উত্তর: (B) সিন্ধু ও সরস্বতী
    ব্যাখ্যা: ‘নদীসূক্ত’ (ঋগ্বেদ, ১০.৭৫) একটি প্রসিদ্ধ স্তোত্র যেখানে ২০টিরও বেশি নদীর নাম পাওয়া যায়। এর মধ্যে সিন্ধু ও সরস্বতী নদীকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিন্ধু নদীকে শক্তি ও গরিমার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরস্বতী নদীকে জ্ঞান ও বাণীর উৎস রূপে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।


  1. পরবর্তী বৈদিক যুগে সমাজব্যবস্থায় কতটি বর্ণ ছিল?
    (A) তিনটি
    (B) চারটি
    (C) পাঁচটি
    (D) দুটি
    উত্তর: (B) চারটি
    ব্যাখ্যা: পরবর্তী বৈদিক যুগে বর্ণব্যবস্থা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমাজ চারটি বর্ণে বিভক্ত হয় — ব্রাহ্মণ (যাজক), ক্ষত্রিয় (যোদ্ধা), বৈশ্য (ব্যবসায়ী/কৃষক) ও শূদ্র (সেবক)। এই বিভাজন কর্মভিত্তিক হলেও ধীরে ধীরে তা জন্মভিত্তিক হয়ে ওঠে।


  1. পরবর্তী বৈদিক সাহিত্য “ব্রাহ্মণ গ্রন্থ” মূলত কী উদ্দেশ্যে রচিত হয়?
    (A) ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ
    (B) রাজনীতি শিক্ষা
    (C) যজ্ঞসংক্রান্ত ব্যাখ্যা
    (D) সঙ্গীত রচনা
    উত্তর: (C) যজ্ঞসংক্রান্ত ব্যাখ্যা
    ব্যাখ্যা: ব্রাহ্মণ গ্রন্থসমূহ বেদের অন্তর্গত গদ্য আকারে রচিত সাহিত্য, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল যজ্ঞসংক্রান্ত আচার, নিয়ম ও তার দার্শনিক ব্যাখ্যা প্রদান করা। এগুলিতে যজ্ঞকে কেন্দ্র করে ব্রহ্মাণ্ডের গঠন, সমাজের শ্রেণিবিন্যাস ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


  1. আরণ্যক গ্রন্থগুলির বিষয়বস্তু কী ছিল?
    (A) যুদ্ধকৌশল
    (B) রাজনীতি
    (C) ধ্যান ও তপস্যা
    (D) পৌরাণিক কাহিনি
    উত্তর: (C) ধ্যান ও তপস্যা
    ব্যাখ্যা: আরণ্যক শব্দের অর্থ ‘অরণ্যে পাঠ্য’। এই গ্রন্থগুলি যাজ্ঞিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি আত্মজ্ঞান ও তত্ত্বচিন্তার উপর গুরুত্ব দিয়েছে। আরণ্যকগুলি ব্রাহ্মণ ও উপনিষদের মধ্যবর্তী এক ধাপ, যা মূলত বনের নির্জনতায় তপস্যা ও আধ্যাত্মিক চিন্তার অনুশীলনের জন্য রচিত হয়।

    1. বৈদিক যুগে ‘পুরোহিত’ পদটি কারা ধারণ করতেন?
      (A) শূদ্র
      (B) ক্ষত্রিয়
      (C) ব্রাহ্মণ
      (D) বৈশ্য
      উত্তর: (C) ব্রাহ্মণ
      ব্যাখ্যা: ব্রাহ্মণরা ছিলেন যজ্ঞ অনুষ্ঠানের প্রধান পুরোহিত এবং বৈদিক মন্ত্র পাঠে পারদর্শী। তারা ধর্মীয় আচার, শিক্ষাদান ও ধর্মতত্ত্ব রচনায় প্রধান ভূমিকা পালন করতেন।


    1. ঋগ্বেদে ‘গোমতী’ শব্দটির ব্যবহার কী বোঝাতে করা হতো?
      (A) গরুতে ভরা নদী
      (B) গরুসমৃদ্ধ
      (C) পবিত্র ভূমি
      (D) জলসম্পদ
      উত্তর: (B) গরুসমৃদ্ধ
      ব্যাখ্যা: বৈদিক যুগে গরু ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ‘গোমতী’ অর্থাৎ ‘গো’ + ‘মতী’ — যে গরুতে সমৃদ্ধ, যা আভিজাত্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক ছিল।


    1. ঋগ্বেদের ‘নাসদীয় সূক্ত’ কোন বিষয়ে রচিত?
      (A) যুদ্ধবর্ণনা
      (B) সৃষ্টি ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি
      (C) সূর্যোপাসনা
      (D) আর্য জাতির উৎস
      উত্তর: (B) সৃষ্টি ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি
      ব্যাখ্যা: ‘নাসদীয় সূক্ত’ (ঋগ্বেদ ১০.১২৯) হচ্ছে একটি গভীর দার্শনিক স্তোত্র যা বিশ্বসৃষ্টির রহস্যময়তা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটি ভারতীয় দর্শনের অন্যতম প্রাচীন দৃষ্টান্ত।


    1. ঋগ্বেদে ‘সপ্ত সিন্ধু’ দ্বারা কী বোঝায়?
      (A) সাতটি বেদ
      (B) সাতটি যজ্ঞ
      (C) সাতটি নদী
      (D) সাতটি গোত্র
      উত্তর: (C) সাতটি নদী
      ব্যাখ্যা: ‘সপ্ত সিন্ধু’ বলতে সাতটি প্রধান নদী বোঝায় — যেমন: সিন্ধু, সরস্বতী, বিপাশা, শতদ্রু, যমুনা, চন্দ্রভাগা ও রাভি। এগুলির তীরে আর্যদের বসতি গড়ে উঠেছিল।


    1. কোন বৈদিক দেবতা ‘পবিত্র অগ্নি’র রূপে পূজিত হতেন?
      (A) বরুণ
      (B) অগ্নি
      (C) ইন্দ্র
      (D) রুদ্র
      উত্তর: (B) অগ্নি
      ব্যাখ্যা: অগ্নি ছিলেন যজ্ঞের মাধ্যমে দেবতা ও মানুষকে সংযুক্তকারী মধ্যস্থতাকারী। প্রতিটি যজ্ঞ অগ্নিদেবকে আহ্বান করেই শুরু হতো।


    1. পরবর্তী বৈদিক যুগে অর্থনৈতিক জীবনের ভিত্তি কী ছিল?
      (A) লৌহচালিত কৃষি
      (B) বার্টার সিস্টেম
      (C) রত্ন ব্যবসা
      (D) সোনামুদ্রা
      উত্তর: (A) লৌহচালিত কৃষি
      ব্যাখ্যা: লৌহের ব্যবহার কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটায়। জমি বেশি কর্ষিত হতে শুরু করে এবং গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে।


    1. ‘পুরুষসূক্ত’ কোন মণ্ডলে পাওয়া যায়?
      (A) প্রথম
      (B) পঞ্চম
      (C) দশম
      (D) সপ্তম
      উত্তর: (C) দশম
      ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলে পুরুষসূক্তে ব্রহ্মা কর্তৃক সৃষ্ট বর্ণবিভাগের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, যা সমাজের চারটি বর্ণের উদ্ভব বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।


    1. বৈদিক যুগে ‘জন’ বলতে কী বোঝাত?
      (A) রাজ্যের প্রশাসন
      (B) উপজাতি বা গোত্র
      (C) বাণিজ্য কাফেলা
      (D) উপাসনা স্থান
      উত্তর: (B) উপজাতি বা গোত্র
      ব্যাখ্যা: ‘জন’ শব্দটি ব্যবহার হত বৈদিক যুগে গোত্রভিত্তিক সমাজের নির্দেশক হিসেবে। যেমন: পুরু জন, ভারত জন ইত্যাদি।


    1. পরবর্তী বৈদিক যুগে কোন বর্ণ সমাজের নিচে অবস্থান করতো?
      (A) ক্ষত্রিয়
      (B) বৈশ্য
      (C) শূদ্র
      (D) ব্রাহ্মণ
      উত্তর: (C) শূদ্র
      ব্যাখ্যা: শূদ্ররা ছিল সমাজের সেবক শ্রেণি। তাদেরকে উচ্চতর বর্ণদের সেবা করাই ছিল ধর্মীয় কর্তব্য বলে বিবেচিত।


    1. ঋগ্বেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ কী ছিল?
      (A) গম
      (B) গরু
      (C) সোনা
      (D) লবণ
      উত্তর: (B) গরু
      ব্যাখ্যা: গরু ছিল আর্যদের প্রধান সম্পদ ও মুদ্রার বিকল্প। যুদ্ধবিজয়, যজ্ঞ, বিয়ে — সর্বক্ষেত্রেই গরু ব্যবহার হতো উপহার বা আদানপ্রদানের জন্য।


    1. বৈদিক সমাজে নারীদের জন্য কোনটি প্রযোজ্য ছিল না?
      (A) উপনয়ন
      (B) সভা সদস্যপদ
      (C) ঋগ্বেদ পাঠ
      (D) যুদ্ধে অংশগ্রহণ
      উত্তর: (D) যুদ্ধে অংশগ্রহণ
      ব্যাখ্যা: নারীরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষা লাভ ও ধর্মীয় ক্রিয়াকর্মে অংশগ্রহণ করলেও, যুদ্ধে অংশগ্রহণ তাদের জন্য অনুমোদিত ছিল না।


    1. ‘অশ্বমেধ যজ্ঞ’ প্রধানত কোন প্রয়োজনে সম্পন্ন হতো?
      (A) বর্ষার জন্য
      (B) বিদ্যার জন্য
      (C) রাজসিংহাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য
      (D) শত্রু দমন
      উত্তর: (C) রাজসিংহাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য
      ব্যাখ্যা: অশ্বমেধ যজ্ঞ একটি রাজনৈতিক যজ্ঞ, যার মাধ্যমে রাজা নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতেন ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোকে নিজেদের অধীনতায় আনতেন।


    1. বৈদিক দেবতা বরুণ কিসের দেবতা ছিলেন?
      (A) যুদ্ধ
      (B) বায়ু
      (C) নৈতিকতা ও ঋত
      (D) প্রেম
      উত্তর: (C) নৈতিকতা ও ঋত
      ব্যাখ্যা: বরুণকে ‘ঋত’ বা নৈতিক নিয়ম-শৃঙ্খলার রক্ষক বলে মানা হতো। তিনি মহাসাগর, ন্যায় ও ব্রহ্মাণ্ডীয় নিয়মের দেবতা।


    1. পরবর্তী বৈদিক যুগে শিক্ষা কোথায় প্রদান করা হতো?
      (A) বিদ্যালয়ে
      (B) আশ্রমে
      (C) মঠে
      (D) মন্দিরে
      উত্তর: (B) আশ্রমে
      ব্যাখ্যা: গুরুগৃহ বা আশ্রম ছিল শিক্ষার কেন্দ্র। এখানে শিষ্যরা গুরুর সেবা করত ও বেদশিক্ষা গ্রহণ করত।


    1. ঋগ্বেদের রচনার সময়কাল আনুমানিক কত?
      (A) খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০–১৫০০
      (B) খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০–১০০০
      (C) খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০–৫০০
      (D) খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০–২০০
      উত্তর: (B) খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০–১০০০
      ব্যাখ্যা: ঐতিহাসিক ও ভাষাবিদদের মতে, ঋগ্বেদ রচিত হয় খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে, যখন আর্যরা পাঞ্জাব অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।


    1. ব্রাহ্মণ সাহিত্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয় কোনটি ছিল?
      (A) আত্মা ও দেহ
      (B) কর্ম ও যজ্ঞ
      (C) সন্ন্যাস
      (D) মায়া
      উত্তর: (B) কর্ম ও যজ্ঞ
      ব্যাখ্যা: ব্রাহ্মণ সাহিত্যে যজ্ঞকে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা বিশ্বাস করত, যজ্ঞের মাধ্যমে দেবতাদের তুষ্ট করলে ইহ ও পরলোকে সুফল পাওয়া যায়।


    1. ‘উপনিষদ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
      (A) উপদেশ
      (B) গুরু-নিন্দা
      (C) গুরুর পাশে বসা
      (D) আত্মত্যাগ
      উত্তর: (C) গুরুর পাশে বসা
      ব্যাখ্যা: ‘উপ’ (কাছ), ‘নি’ (নিচে), ‘ষদ’ (বসা) — এই তিনটি উপসর্গ মিলে ‘উপনিষদ’ শব্দটি গঠিত, যার অর্থ গুরু বা আচার্যের নিকট জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে বসা।


    1. কোন আর্য ধর্মীয় গ্রন্থে দার্শনিক চিন্তার সূচনা হয়?
      (A) ব্রাহ্মণ
      (B) উপনিষদ
      (C) আরণ্যক
      (D) বৈদিক সংহিতা
      উত্তর: (B) উপনিষদ
      ব্যাখ্যা: উপনিষদে আত্মা, ব্রহ্মা, পুনর্জন্ম, মায়া, মোক্ষ প্রভৃতি দার্শনিক ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ভারতীয় দর্শনের ভিত্তি গড়ে তোলে।


    1. ঋগ্বেদে সর্বাধিক স্তোত্র কোন দেবতাকে নিবেদিত?
      (A) বরুণ
      (B) অগ্নি
      (C) ইন্দ্র
      (D) সোম
      উত্তর: (C) ইন্দ্র
      ব্যাখ্যা: ইন্দ্রকে নিবেদিত রয়েছে প্রায় ২৫০টি স্তোত্র, যা অন্যান্য দেবতাদের চেয়ে বেশি। এটি তার জনপ্রিয়তার ও যুদ্ধভিত্তিক সমাজের প্রতিফলন।


    1. বৈদিক সমাজে ‘গৃহপতি’ কাকে বলা হতো?
      (A) যজ্ঞ পরিচালনাকারী
      (B) গৃহের কর্তা পুরুষ
      (C) বস্ত্রকার
      (D) নারীদের দলনেত্রী
      উত্তর: (B) গৃহের কর্তা পুরুষ
      ব্যাখ্যা: গৃহপতি ছিলেন পরিবারের কর্তা, যিনি গৃহস্থালির পাশাপাশি ধর্মীয় কাজ ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতেন।

      1. কোন বৈদিক দেবতা ‘বায়ু’ বা বাতাসের প্রতীক ছিলেন?
        (A) অগ্নি
        (B) রুদ্র
        (C) বরুণ
        (D) বায়ু
        উত্তর: (D) বায়ু
        ব্যাখ্যা: বায়ু ছিলেন বাতাসের দেবতা, যিনি ইন্দ্রের সহচর বলে বিবেচিত হতেন। ঋগ্বেদে তাঁকে প্রাণশক্তির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।


      1. পরবর্তী বৈদিক যুগে কোন বর্ণ আর্থিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল?
        (A) ব্রাহ্মণ
        (B) ক্ষত্রিয়
        (C) বৈশ্য
        (D) শূদ্র
        উত্তর: (C) বৈশ্য
        ব্যাখ্যা: বৈশ্যরা কৃষিকাজ, পশুপালন, ও বাণিজ্য দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করত। তারা রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতো।


      1. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘কৃষি’ কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল কেন?
        (A) নগর সভ্যতা গঠনের জন্য
        (B) যুদ্ধ প্রশিক্ষণের জন্য
        (C) খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য
        (D) শিল্প বিপ্লবের জন্য
        উত্তর: (C) খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য
        ব্যাখ্যা: কৃষির উন্নয়নের ফলে সমাজে খাদ্যের জোগান বৃদ্ধি পায় ও দানাশস্যের মাধ্যমে কর আদায় সহজ হয়, ফলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো দৃঢ় হয়।


      1. ‘উপনিষদ’-এ মূলত কোন বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়?
        (A) যুদ্ধ ও রাজনীতি
        (B) যজ্ঞ ও ব্রাহ্মণতন্ত্র
        (C) আত্মা ও ব্রহ্মজ্ঞান
        (D) শিল্প ও প্রযুক্তি
        উত্তর: (C) আত্মা ও ব্রহ্মজ্ঞান
        ব্যাখ্যা: উপনিষদগুলিতে আত্মা (আত্মন) এবং ব্রহ্ম (সর্বজগতের মৌলিক সত্য) এর সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ রয়েছে। “তত্ত্বমসि” বা “তুই সেই” — এরূপ দার্শনিক উক্তি এখানেই পাওয়া যায়।


      1. ‘সত্র’ বলতে কী বোঝায়?
        (A) ব্রাহ্মণের পরামর্শ সভা
        (B) ধর্মতত্ত্ব রচনার সংকলন
        (C) দীর্ঘস্থায়ী যজ্ঞ
        (D) গোত্র সভা
        উত্তর: (C) দীর্ঘস্থায়ী যজ্ঞ
        ব্যাখ্যা: ‘সত্র’ হলো বহুদিন ধরে চলা যজ্ঞ যা বিশেষভাবে ব্রাহ্মণ ও রাজন্যগণ সম্পাদন করত। এতে বহু পুরোহিত অংশ নিতেন।


      1. ‘ঋত’ ধারণাটি কী বোঝায়?
        (A) ঋতুচক্র
        (B) ধর্মীয় গান
        (C) মহাজাগতিক নিয়ম
        (D) রাজনীতির সূত্র
        উত্তর: (C) মহাজাগতিক নিয়ম
        ব্যাখ্যা: ঋত হলো সেই নৈতিক ও জাগতিক শৃঙ্খলা যা বিশ্বচরাচর পরিচালনা করে। বরুণ এই ঋতের রক্ষক হিসেবে পরিচিত।


      1. বৈদিক যুগে ‘নিষ্ক’ শব্দটি কী নির্দেশ করত?
        (A) মুদ্রা
        (B) অস্ত্র
        (C) যজ্ঞের পাত্র
        (D) গবাদি পশু
        উত্তর: (A) মুদ্রা
        ব্যাখ্যা: ‘নিষ্ক’ শব্দটি মূলত সোনার তৈরি এক ধরনের অলংকার হলেও পরবর্তী সময়ে তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে অর্থের প্রতীক হয়ে ওঠে।


      1. কোন ভৌগোলিক অঞ্চলকে ‘আর্যাবর্ত’ বলা হতো?
        (A) দাক্ষিণাত্য
        (B) গঙ্গা-যমুনার অববাহিকা
        (C) সিন্ধু নদীর তীর
        (D) বঙ্গীয় উপকূল
        উত্তর: (B) গঙ্গা-যমুনার অববাহিকা
        ব্যাখ্যা: গঙ্গা-যমুনার মাঝের উর্বর অঞ্চলকে বৈদিক সাহিত্যে ‘আর্যাবর্ত’ নামে অভিহিত করা হয়েছে — যেখানে আর্য সমাজ বিকশিত হয়েছিল।


      1. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘জনপদ’ শব্দটি কী বোঝাত?
        (A) একটি গোত্র
        (B) যজ্ঞমঞ্চ
        (C) রাজ্য বা রাজনৈতক অঞ্চল
        (D) ধর্মীয় উপাসনাস্থল
        উত্তর: (C) রাজ্য বা রাজনৈতক অঞ্চল
        ব্যাখ্যা: ‘জনপদ’ হলো স্থায়ী বসতি ও রাজনৈতক ইউনিট। এটি প্রাক-মহাজনপদ যুগের সূচনাকাল নির্দেশ করে।


      1. কোন ব্রাহ্মণ গ্রন্থটি ‘যজুর্বেদ’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট?
        (A) আইতারেয় ব্রাহ্মণ
        (B) শতপথ ব্রাহ্মণ
        (C) শঙ্খায়ন ব্রাহ্মণ
        (D) কৌশীতকি ব্রাহ্মণ
        উত্তর: (B) শতপথ ব্রাহ্মণ
        ব্যাখ্যা: শতপথ ব্রাহ্মণ হলো যজুর্বেদের সবচেয়ে বিশাল ও বিশ্লেষণধর্মী ব্রাহ্মণ গ্রন্থ। এটি যজ্ঞসংক্রান্ত নিয়ম-কানুন ও দর্শনের বিশদ ব্যাখ্যা দেয়।


      1. কোন উপনিষদে ‘অহিংসা পরম ধর্ম’ ভাবধারা দেখা যায়?
        (A) ছান্দোগ্য
        (B) কৈঠকী
        (C) বृहদারণ্যক
        (D) মুণ্ডক
        উত্তর: (A) ছান্দোগ্য
        ব্যাখ্যা: ছান্দোগ্য উপনিষদে আত্মা, অহিংসা ও আধ্যাত্মিক মুক্তি সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে। “সত্যমেব জয়তে” – এই ধ্যানধারণা এখানেই উত্থিত।


      1. বৈদিক যুগে ‘গোবি’ অর্থ কী?
        (A) গোশালা
        (B) যজ্ঞস্থল
        (C) গোবর্ধন পর্বত
        (D) গোশিল্পে নিযুক্ত ব্যক্তি
        উত্তর: (D) গোশিল্পে নিযুক্ত ব্যক্তি
        ব্যাখ্যা: গরুর পালনের দায়িত্বে যারা থাকতেন, অর্থাৎ পশুপালক, তাদের ‘গোবি’ বলা হতো।


      1. উপনিষদে ‘নেতি নেতি’ ধারণার অর্থ কী?
        (A) সবকিছুই সত্য
        (B) ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এমন ব্রহ্ম
        (C) যুদ্ধেই মুক্তি
        (D) কর্মই ধর্ম
        উত্তর: (B) ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এমন ব্রহ্ম
        ব্যাখ্যা: ‘নেতি নেতি’ অর্থ “এটি নয়, সেটিও নয়” – উপনিষদে এই ধারণা ব্যবহার করে বলা হয় ব্রহ্ম কোনো জড় বস্তু নয়, তা অভিজ্ঞতার অতীত।


      1. পরবর্তী বৈদিক যুগে প্রথম স্থায়ী কৃষিসভ্যতা কোথায় গড়ে ওঠে?
        (A) পাঞ্জাব
        (B) কাশ্মীর
        (C) কুরু-পাঞ্চাল
        (D) অবন্তী
        উত্তর: (C) কুরু-পাঞ্চাল
        ব্যাখ্যা: কুরু ও পাঞ্চাল ছিল দুটি শক্তিশালী জনপদ যেখানে লৌহযন্ত্রের সাহায্যে কৃষি উন্নত হয় এবং স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে।


      1. বৈদিক দেবতা ‘রুদ্র’ কিসের প্রতীক ছিলেন?
        (A) রোগ ও ধ্বংস
        (B) প্রেম ও সৌন্দর্য
        (C) বৃষ্টি
        (D) আলো ও জ্ঞান
        উত্তর: (A) রোগ ও ধ্বংস
        ব্যাখ্যা: রুদ্র ছিলেন ভয়ংকর দেবতা, যিনি রোগ, মৃত্যু ও ধ্বংসের প্রতীক। পরবর্তীতে রুদ্রের রূপান্তরেই ‘শিব’ দেবতার উদ্ভব ঘটে।


      1. ঋগ্বেদে ‘ইল’ শব্দটি কোন নারীর নাম?
        (A) গরুর প্রতীক
        (B) বর্ণপ্রথার প্রচারক
        (C) যজ্ঞের দেবী
        (D) ধরিত্রী বা পৃথিবী
        উত্তর: (C) যজ্ঞের দেবী
        ব্যাখ্যা: ইল ছিলেন এক ধরনের দেবী যিনি যজ্ঞে পুরোহিতদের সহায়তা করতেন। তাঁকে প্রজ্ঞা ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হতো।


      1. পরবর্তী বৈদিক যুগে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়?
        (A) যুদ্ধ
        (B) দার্শনিক চিন্তা
        (C) যজ্ঞ
        (D) শিকার
        উত্তর: (C) যজ্ঞ
        ব্যাখ্যা: এই যুগে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে এবং যজ্ঞ ছিল প্রধান ধর্মীয় অনুষঙ্গ, যার মাধ্যমে ফল লাভের আশ্বাস দেওয়া হতো।


      1. ‘কৃপণ’ শব্দটি উপনিষদে কাকে বোঝায়?
        (A) গরিব ব্যক্তি
        (B) ধর্মহীন ব্যক্তি
        (C) আত্মজ্ঞানহীন ব্যক্তি
        (D) কৃপণ রাজা
        উত্তর: (C) আত্মজ্ঞানহীন ব্যক্তি
        ব্যাখ্যা: উপনিষদে বলা হয়, যে ব্যক্তি আত্মজ্ঞান ব্যতীত জীবনযাপন করে, সে ‘কৃপণ’, যদিও সে বিত্তবান হোক বা দরিদ্র।


      1. ঋগ্বেদ অনুযায়ী ‘অম্বিতমে নদীতমে দেবীতমে’ কার উদ্দেশ্যে বলা হয়?
        (A) গঙ্গা
        (B) যমুনা
        (C) সরস্বতী
        (D) সিন্ধু
        উত্তর: (C) সরস্বতী
        ব্যাখ্যা: এই স্তোত্রটি সরস্বতী নদীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত যেখানে তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ নদী ও দেবী রূপে প্রশংসা করা হয়েছে।


      1. কোন বৈদিক সাহিত্যে প্রথম পুনর্জন্মের ধারণা পাওয়া যায়?
        (A) ঋগ্বেদ
        (B) ব্রাহ্মণ
        (C) আরণ্যক
        (D) উপনিষদ
        উত্তর: (D) উপনিষদ
        ব্যাখ্যা: উপনিষদে প্রথম আত্মা, পুনর্জন্ম, ও কর্মফলের তত্ত্ব বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা পরবর্তী হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন দর্শনের ভিত্তি তৈরি করে।

        1. ‘ব্রহ্মচর্য’ আশ্রমের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
          (A) সংসার ধর্ম পালন
          (B) যজ্ঞ সম্পাদন
          (C) গুরুগৃহে শিক্ষা গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণে থাকা
          (D) ব্যবসা ও কৃষি
          উত্তর: (C) গুরুগৃহে শিক্ষা গ্রহণ ও নিয়ন্ত্রণে থাকা
          ব্যাখ্যা: ব্রহ্মচর্য আশ্রম জীবনের প্রথম ধাপ, যেখানে ছাত্র গুরুগৃহে বাস করে আত্মসংযম, যজ্ঞবিদ্যা ও বেদ অধ্যয়ন করত।


        1. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘সংসারধর্ম’ পালনের আশ্রম কোনটি?
          (A) ব্রহ্মচর্য
          (B) গার্হস্থ্য
          (C) বনপ্রস্থ
          (D) সন্ন্যাস
          উত্তর: (B) গার্হস্থ্য
          ব্যাখ্যা: গার্হস্থ্য আশ্রমে বিয়ে, পরিবার প্রতিপালন, যজ্ঞ, অতিথিসেবা এবং সমাজের অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন করা হতো।


        1. ‘শতপথ ব্রাহ্মণ’ গ্রন্থে কোন দেবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে?
          (A) অগ্নি
          (B) ইন্দ্র
          (C) প্রজাপতি
          (D) বরুণ
          উত্তর: (C) প্রজাপতি
          ব্যাখ্যা: শতপথ ব্রাহ্মণে প্রজাপতিকে সৃষ্টি ও যজ্ঞের কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যিনি সমস্ত জীবের উৎপত্তির উৎস।


        1. উপনিষদে “তত্ত্বমসি” উক্তিটির অর্থ কী?
          (A) তুই মিথ্যা
          (B) তুই সেই (ব্রহ্ম)
          (C) তুই যুদ্ধ কর
          (D) তুই ধর্মের রক্ষক
          উত্তর: (B) তুই সেই (ব্রহ্ম)
          ব্যাখ্যা: “তত্ত্বমসি” অর্থাৎ “তুই সেই” — এই মহাবাক্যে আত্মা ও ব্রহ্মের ঐক্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা উপনিষদীয় দর্শনের কেন্দ্র।


        1. ঋগ্বেদের কোন মণ্ডলে দার্শনিক সূক্ত যেমন ‘নাসদীয় সূক্ত’ পাওয়া যায়?
          (A) দ্বিতীয়
          (B) ষষ্ঠ
          (C) দশম
          (D) প্রথম
          উত্তর: (C) দশম
          ব্যাখ্যা: দশম মণ্ডল ঋগ্বেদের পরবর্তী রচনা, যেখানে সৃষ্টিতত্ত্ব, আত্মা, দেবতা এবং সমাজসংক্রান্ত ভাবনার সূচনা ঘটে।


        1. কাকে বৈদিক যুগের ‘ঋষি পিতা’ বলা হয়?
          (A) যাজ্ঞবল্ক্য
          (B) বসিষ্ঠ
          (C) বিষ্ণু
          (D) অত্রি
          উত্তর: (B) বসিষ্ঠ
          ব্যাখ্যা: বসিষ্ঠ ছিলেন একজন বিশিষ্ট ঋষি ও বহু ঋচার রচয়িতা। রাজা দশরথের পুরোহিত হিসেবেও তাঁর নাম পাওয়া যায়। বৈদিক ঋষিদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী।


        1. কোন নারী ঋষি ঋগ্বেদের সূক্ত রচনা করেছিলেন?
          (A) গার্গী
          (B) মৈত্রেয়ী
          (C) লোপামুদ্রা
          (D) আরুন্ধতী
          উত্তর: (C) লোপামুদ্রা
          ব্যাখ্যা: লোপামুদ্রা ছিলেন ঋষি অগস্ত্যের পত্নী এবং নিজেই ঋগ্বেদের একটি সূক্ত রচনা করেন। এটি নারী জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।


        1. উপনিষদের সংখ্যা আনুমানিক কতটি ধরা হয়?
          (A) ৮
          (B) ১০৮
          (C) ২৮
          (D) ৪
          উত্তর: (B) ১০৮
          ব্যাখ্যা: যদিও সব উপনিষদই প্রাচীন নয়, তবে ঐতিহ্যগতভাবে ১০৮টি উপনিষদকে বৈদিক সাহিত্যের অংশ বলে গণ্য করা হয়। এর মধ্যে প্রাচীনতম ১২টি উপনিষদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


        1. ‘বেদাঙ্গ’ বলতে কী বোঝায়?
          (A) বেদের ঋষি
          (B) বেদের সম্প্রসারিত অংশ
          (C) বেদ অধ্যয়নের সহায়ক শাস্ত্র
          (D) পুরাণ
          উত্তর: (C) বেদ অধ্যয়নের সহায়ক শাস্ত্র
          ব্যাখ্যা: বেদাঙ্গ ৬টি শাখায় বিভক্ত — শিক্ষা, কাল্প, িব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ ও জ্যোতিষ। এগুলি বেদ পাঠ ও অনুশীলনের সহায়ক।


        1. ঋগ্বেদ অনুযায়ী ‘ধর্ম’ শব্দটির অর্থ কী ছিল?
          (A) মোক্ষের পথ
          (B) নিয়ম বা ঋত
          (C) দেবতার নাম
          (D) আর্থিক অনুদান
          উত্তর: (B) নিয়ম বা ঋত
          ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের প্রাথমিক স্তরে ‘ধর্ম’ শব্দটি মোক্ষ বা পূজার অর্থে নয়, বরং মহাজাগতিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়ের প্রতীক ‘ঋত’-এর সঙ্গে সমার্থক ছিল।


        1. উপনিষদে ‘অন্তর্যামী’ কাকে বোঝায়?
          (A) বহির্দেশীয় ঈশ্বর
          (B) রাজা
          (C) অন্তরে বিরাজমান আত্মা
          (D) পুরোহিত
          উত্তর: (C) অন্তরে বিরাজমান আত্মা
          ব্যাখ্যা: উপনিষদীয় দার্শনিক চিন্তায় ‘অন্তর্যামী’ হলো সেই ঈশ্বর বা আত্মা যিনি প্রতিটি জীবের হৃদয়ে বসবাস করেন ও পরিচালনা করেন।


        1. কোন আশ্রম জীবনে ‘বনবাস’ গ্রহণ করা হয়?
          (A) ব্রহ্মচর্য
          (B) গার্হস্থ্য
          (C) বনপ্রস্থ
          (D) সন্ন্যাস
          উত্তর: (C) বনপ্রস্থ
          ব্যাখ্যা: গার্হস্থ্য আশ্রম শেষে যখন সন্তানরা বড় হয়ে যায়, তখন দম্পতি বনপ্রস্থ আশ্রমে প্রবেশ করে। সেখানে তারা ধ্যান ও সংযমচর্চায় মনোনিবেশ করে।


        1. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘গুরু-শিষ্য’ সম্পর্ক কোথায় স্পষ্টভাবে দেখা যায়?
          (A) উপনিষদ
          (B) আরণ্যক
          (C) ব্রাহ্মণ
          (D) পুরাণ
          উত্তর: (A) উপনিষদ
          ব্যাখ্যা: উপনিষদে গুরু-শিষ্যের মাঝে জিজ্ঞাসা ও জ্ঞানের আদান-প্রদানের রূপে দর্শন চর্চা হয়। যেমন: যাজ্ঞবল্ক্য ও গার্গীর সংলাপ।


        1. ‘ঋত’ ধারণা কোন দেবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত?
          (A) অগ্নি
          (B) বরুণ
          (C) সোম
          (D) ইন্দ্র
          উত্তর: (B) বরুণ
          ব্যাখ্যা: বরুণ ছিলেন ন্যায় ও ঋতের রক্ষক। তিনি মহাজাগতিক নিয়ম-শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার দেবতা হিসেবে পূজিত।


        1. কোন আর্য নারীর দার্শনিক বিতর্কের উল্লেখ উপনিষদে পাওয়া যায়?
          (A) লোপামুদ্রা
          (B) সাবিত্রী
          (C) গার্গী
          (D) উর্বশী
          উত্তর: (C) গার্গী
          ব্যাখ্যা: গার্গী ছিলেন এক বিশিষ্ট দার্শনিক নারী যিনি বृहদারণ্যক উপনিষদে যাজ্ঞবল্ক্যের সঙ্গে ব্রহ্ম বিষয়ক আলোচনা করেন।


        1. ‘যজ্ঞ’ পরবর্তী বৈদিক যুগে কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
          (A) একক কাব্যরূপে
          (B) দার্শনিক চিন্তার প্রতীক
          (C) জটিল আচার-বিচার ও ব্রাহ্মণতন্ত্রে রূপান্তর
          (D) সামাজিক নাটক
          উত্তর: (C) জটিল আচার-বিচার ও ব্রাহ্মণতন্ত্রে রূপান্তর
          ব্যাখ্যা: যজ্ঞকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণরা সামাজিক আধিপত্য কায়েম করে। এটি পরে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের বিকাশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।


        1. কোন বর্ণ ‘উপনয়ন’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারত না?
          (A) ব্রাহ্মণ
          (B) ক্ষত্রিয়
          (C) শূদ্র
          (D) বৈশ্য
          উত্তর: (C) শূদ্র
          ব্যাখ্যা: উপনয়ন বা দ্বিতীয় জন্ম কেবলমাত্র ত্রিবর্ণ (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য) সমাজের জন্য বরাদ্দ ছিল। শূদ্রদের এই ধর্মীয় অধিকার ছিল না।


        1. ঋগ্বেদের শেষ মণ্ডল কোনটি?
          (A) নবম
          (B) অষ্টম
          (C) দশম
          (D) সপ্তম
          উত্তর: (C) দশম
          ব্যাখ্যা: দশম মণ্ডল তুলনামূলকভাবে পরে সংযোজিত এবং এতে দার্শনিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বহু নতুন বিষয় স্থান পেয়েছে।


        1. পরবর্তী বৈদিক যুগে নারীদের সামাজিক অবস্থান কেমন ছিল?
          (A) সমান
          (B) দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক
          (C) পূর্ণ স্বাধীনতা
          (D) সামরিক ভূমিকায়
          উত্তর: (B) দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক
          ব্যাখ্যা: প্রাথমিক বৈদিক যুগে নারীদের সম্মান ছিল বেশি, কিন্তু পরবর্তীকালে ব্রাহ্মণতন্ত্র জোরদার হলে নারী স্বাধীনতা হ্রাস পায় এবং তাদের প্রধানত গৃহস্থ কাজে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।


        1. কোন গ্রন্থে প্রথম ‘ব্রহ্ম’ শব্দটি আত্মিক চেতনার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
          (A) ঋগ্বেদ
          (B) ব্রাহ্মণ
          (C) উপনিষদ
          (D) গীতা
          উত্তর: (C) উপনিষদ
          ব্যাখ্যা: উপনিষদে ‘ব্রহ্ম’ শব্দটি ব্যবহার হয়েছে সর্বব্যাপী চেতনাশক্তি বা পরম সত্য হিসেবে। এটি দার্শনিক ধর্মচিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান পায়।

          1. পরবর্তী বৈদিক সমাজে ‘কৌলিন্য’ কোন বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত?
            (A) শিক্ষা
            (B) বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব
            (C) অর্থনৈতিক সম্পদ
            (D) দান
            উত্তর: (B) বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব
            ব্যাখ্যা: কৌলিন্য ধারণা পরবর্তী বৈদিক সমাজে বংশগত শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হয়ে ওঠে, যা সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসকে আরও দৃঢ় করে।


          1. ব্রাহ্মণ সাহিত্যে “পুরুষসূক্ত” কী বোঝায়?
            (A) মানুষের দৈহিক গঠন
            (B) যজ্ঞের প্রকার
            (C) ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি তত্ত্ব
            (D) শ্রেণি-বিভাগের উৎপত্তি
            উত্তর: (D) শ্রেণি-বিভাগের উৎপত্তি
            ব্যাখ্যা: পুরুষসূক্তে বলা হয়েছে যে সৃষ্টিকর্তার দেহ থেকেই চারটি বর্ণের উৎপত্তি — ব্রাহ্মণ (মুখ), ক্ষত্রিয় (হাত), বৈশ্য (উরু) এবং শূদ্র (পদ)।


          1. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘ধর্ম’ ধারণা কীভাবে বিবর্তিত হয়?
            (A) আচারনির্ভর ও বর্ণনির্ভর ধর্মরূপে
            (B) রাষ্ট্রচালনার নিয়ম
            (C) দর্শনের একটি শাখা
            (D) কেবল যজ্ঞনির্ভর
            উত্তর: (A) আচারনির্ভর ও বর্ণনির্ভর ধর্মরূপে
            ব্যাখ্যা: বৈদিক যুগের শেষ দিকে ধর্ম ব্যক্তির আচরণ, সামাজিক ভূমিকা ও বর্ণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, যজ্ঞ তার অন্যতম উপাদান ছিল।


          1. উপনিষদের প্রধান অনুসন্ধান কী?
            (A) দেবতা পুজোর নিয়ম
            (B) আত্মা ও ব্রহ্মের সম্পর্ক
            (C) শাসনব্যবস্থা
            (D) কৃষি ও পশুপালন
            উত্তর: (B) আত্মা ও ব্রহ্মের সম্পর্ক
            ব্যাখ্যা: উপনিষদ আত্মা (আত্মন) এবং পরম চেতনা (ব্রহ্ম) এই দুইয়ের ঐক্য এবং তাঁদের প্রকৃতি নিয়ে গম্ভীর দার্শনিক আলোচনা করে।


          1. ‘সত্যম জ্ঞানম অনন্তম ব্রহ্ম’ — এই বাক্যটি কোন গ্রন্থ থেকে এসেছে?
            (A) ঋগ্বেদ
            (B) ছান্দোগ্য উপনিষদ
            (C) তৈত্তিরীয় উপনিষদ
            (D) গীতা
            উত্তর: (C) তৈত্তিরীয় উপনিষদ
            ব্যাখ্যা: তৈত্তিরীয় উপনিষদে ব্রহ্মের চরিত্র বর্ণনায় বলা হয়েছে — “সত্যম্ জ্ঞানম্ অনন্তম্ ব্রহ্ম”, অর্থাৎ ব্রহ্ম সত্য, জ্ঞান ও অনন্ত।


          1. ‘নাসদীয় সূক্ত’ কী বিষয়ে রচিত?
            (A) রাজশক্তির গঠন
            (B) ধর্মীয় সংস্কার
            (C) সৃষ্টি রহস্য
            (D) প্রাণীজগতের বিবরণ
            উত্তর: (C) সৃষ্টি রহস্য
            ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের ‘নাসদীয় সূক্ত’ হলো এক দার্শনিক রচনা যেখানে বিশ্বের সৃষ্টির পূর্বঅবস্থা এবং অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।


          1. গার্গী কোন গ্রন্থে যাজ্ঞবল্ক্যের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেন?
            (A) ঋগ্বেদ
            (B) ছান্দোগ্য উপনিষদ
            (C) বৃহদারণ্যক উপনিষদ
            (D) আত্রেয় ব্রাহ্মণ
            উত্তর: (C) বৃহদারণ্যক উপনিষদ
            ব্যাখ্যা: বৃহদারণ্যক উপনিষদে গার্গী ও যাজ্ঞবল্ক্যের মধ্যে ব্রহ্ম ও চেতনার বিষয়ে উচ্চস্তরের দার্শনিক বিতর্ক রয়েছে।


          1. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘অশ্বমেধ যজ্ঞ’ কী নির্দেশ করে?
            (A) জ্ঞানচর্চা
            (B) প্রাণদান
            (C) সাম্রাজ্য বিস্তারের অধিকার
            (D) উপনয়ন
            উত্তর: (C) সাম্রাজ্য বিস্তারের অধিকার
            ব্যাখ্যা: অশ্বমেধ ছিল একধরনের রাজসূয় যজ্ঞ, যেখানে ঘোড়া ছেড়ে দেওয়া হতো বিভিন্ন রাজ্য জয় করার প্রতীক হিসেবে।


          1. আর্যরা গৃহ নির্মাণে কোন বস্তু প্রধানত ব্যবহার করত?
            (A) ইট
            (B) কাঠ
            (C) পাথর
            (D) ধাতু
            উত্তর: (B) কাঠ
            ব্যাখ্যা: বৈদিক যুগে গৃহ নির্মাণে কাঠই প্রধান উপাদান ছিল। ইট-পাথরের ব্যবহারে বিশেষ নজির নেই।


          1. বৈদিক সমাজে ‘স্মৃতি’ গ্রন্থের ভূমিকা কী?
            (A) ইতিহাস সংরক্ষণ
            (B) দেবতা পূজার রীতি নির্ধারণ
            (C) সামাজিক ও ধর্মীয় আচরণবিধি নির্ধারণ
            (D) চিকিৎসা পদ্ধতি
            উত্তর: (C) সামাজিক ও ধর্মীয় আচরণবিধি নির্ধারণ
            ব্যাখ্যা: স্মৃতি গ্রন্থে (যেমন: মনুস্মৃতি) বর্ণ, আশ্রম, নারী, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কঠোর সামাজিক নিয়মাবলি নির্ধারিত হয়।


          1. কোন উপনিষদে ‘নেতি নেতি’ তত্ত্বের বর্ণনা রয়েছে?
            (A) গীতোপনিষদ
            (B) ছান্দোগ্য উপনিষদ
            (C) মুণ্ডক উপনিষদ
            (D) বृहদারণ্যক উপনিষদ
            উত্তর: (D) বৃহদারণ্যক উপনিষদ
            ব্যাখ্যা: ‘নেতি নেতি’ অর্থাৎ “এ নয়, সে নয়” — বৃষদারণ্যক উপনিষদে ব্রহ্মকে সংজ্ঞায়নের ব্যর্থতা ও অতীত সকল গুণ থেকে মুক্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।


          1. পরবর্তী বৈদিক যুগে বর্ণবিভাগ কোন ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে শুরু করে?
            (A) পেশা
            (B) জন্ম
            (C) শিক্ষা
            (D) উপনয়ন
            উত্তর: (B) জন্ম
            ব্যাখ্যা: শুরুতে বর্ণ নির্ধারণ হতো কর্ম বা গুণ অনুযায়ী। কিন্তু পরবর্তী যুগে এটি জন্মভিত্তিক হয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে জাতিভেদ প্রথার ভিত্তি তৈরি করে।


          1. কোন ব্রাহ্মণগ্রন্থে বৃহত্তর যজ্ঞ পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে?
            (A) তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ
            (B) শতপথ ব্রাহ্মণ
            (C) আত্রেয় ব্রাহ্মণ
            (D) গোপথ ব্রাহ্মণ
            উত্তর: (B) শতপথ ব্রাহ্মণ
            ব্যাখ্যা: শতপথ ব্রাহ্মণ যজ্ঞকেন্দ্রিক ব্রাহ্মণ সাহিত্যের অন্যতম বৃহৎ অংশ, যা যাজ্ঞবল্ক্য ঋষির সঙ্গে যুক্ত।


          1. পরবর্তী বৈদিক যুগে নারীদের কীভাবে চিহ্নিত করা হয়?
            (A) আত্মনির্ভর ও যজ্ঞ-সক্ষম
            (B) শিক্ষাপ্রাপ্ত ও দার্শনিক
            (C) গৃহবধূ ও সন্তান প্রতিপালনে নিয়োজিত
            (D) রাজ্যশাসনে যুক্ত
            উত্তর: (C) গৃহবধূ ও সন্তান প্রতিপালনে নিয়োজিত
            ব্যাখ্যা: পরবর্তী বৈদিক যুগে নারী শিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে যায় এবং তাদের ভূমিকা গৃহকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে।


          1. ‘অরণ্যক’ গ্রন্থের বিষয়বস্তু কী?
            (A) সামরিক নীতি
            (B) গ্রামীণ জীবন
            (C) গৃহস্থালির নিয়ম
            (D) ধ্যান, তপস্যা ও দর্শন
            উত্তর: (D) ধ্যান, তপস্যা ও দর্শন
            ব্যাখ্যা: অরণ্যক গ্রন্থে যজ্ঞ, ধ্যান, তপস্যা ও পরলোক চিন্তা—এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে, যা গার্হস্থ্য জীবনের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য নির্দেশিত।


          1. বৈদিক যুগে ‘সোম’ কী ছিল?
            (A) একটি শস্য
            (B) যুদ্ধের অস্ত্র
            (C) একটি দেবতা ও একটি পানীয়
            (D) সংস্কৃত সাহিত্যের রচয়িতা
            উত্তর: (C) একটি দেবতা ও একটি পানীয়
            ব্যাখ্যা: সোম ছিল একদিকে ঔষধিগুণসম্পন্ন এক প্রাচীন পানীয় এবং অপরদিকে তা এক দেবতারূপে পূজিত হতেন। যজ্ঞে সোম রসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।


          1. ‘ছান্দোগ্য উপনিষদ’ প্রধানত কী বিষয়ে রচিত?
            (A) রাজনীতি
            (B) ব্যাকরণ
            (C) ব্রহ্মতত্ত্ব ও আত্মার জ্ঞান
            (D) ইতিহাস
            উত্তর: (C) ব্রহ্মতত্ত্ব ও আত্মার জ্ঞান
            ব্যাখ্যা: ছান্দোগ্য উপনিষদ ব্রহ্ম এবং আত্মার মধ্যে ঐক্য স্থাপনের ওপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণ করে। তত্ত্বমসি ইত্যাদি মহাবাক্য এখানেই পাওয়া যায়।


          1. কোন উপনিষদে ‘স্বপ্ন’ অবস্থা নিয়ে বিশ্লেষণ রয়েছে?
            (A) ছান্দোগ্য
            (B) মাণ্ডুক্য
            (C) কৌশীতকী
            (D) কাথ
            উত্তর: (B) মাণ্ডুক্য
            ব্যাখ্যা: মাণ্ডুক্য উপনিষদে মানব চেতনার চারটি অবস্থা (জাগ্রত, স্বপ্ন, সুষুপ্তি, তুরীয়) বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দর্শনচিন্তা।


          1. “বাহ্য দেবতা নয়, অন্তর্জগতে খোঁজ কর” — এই বোধ কোন যুগে বিকশিত হয়?
            (A) প্রাথমিক বৈদিক
            (B) পরবর্তী বৈদিক
            (C) মৌর্য যুগ
            (D) বৌদ্ধ যুগ
            উত্তর: (B) পরবর্তী বৈদিক
            ব্যাখ্যা: উপনিষদ ও অরণ্যক পর্যায়ে অন্তর্জ্ঞান ও চেতনার অনুসন্ধান শুরু হয়, যেখানে বাহ্যিক যজ্ঞের বদলে অন্তর্জগতের আত্মা-সন্ধান মুখ্য হয়ে ওঠে।


          1. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘গুরু-শিষ্য’ শিক্ষা পদ্ধতি কী নির্দেশ করে?
            (A) সংগঠিত বিদ্যালয়
            (B) বিশ্ববিদ্যালয় পদ্ধতি
            (C) গুরুগৃহে বসবাস করে মৌখিক শিক্ষাগ্রহণ
            (D) রাজকীয় পাঠশালা
            উত্তর: (C) গুরুগৃহে বসবাস করে মৌখিক শিক্ষাগ্রহণ
            ব্যাখ্যা: পরবর্তী বৈদিক যুগে ছাত্ররা গুরুগৃহে বাস করত, স্বনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করত এবং মৌখিকভাবে বেদ, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি শিখত।

            91. পরবর্তী বৈদিক যুগে ‘উপনয়ন’ কী নির্দেশ করে?
            (A) বিয়ে
            (B) যজ্ঞ
            (C) শিক্ষার সূচনা
            (D) রাজ্যাভিষেক
            উত্তর: (C) শিক্ষার সূচনা
            ব্যাখ্যা: উপনয়ন ছিল ছাত্রজীবনের সূচনার অনুষ্ঠান। বালককে গুরুগৃহে পাঠানোর আগে এই ধর্মীয় অনুষঙ্গ পালিত হতো, যা বেদ অধ্যয়নের অনুমোদন দিত।


            92. ‘তত্ত্বমসि’ মহাবাক্যটি কোথায় পাওয়া যায়?
            (A) বৃহদারণ্যক উপনিষদ
            (B) ছান্দোগ্য উপনিষদ
            (C) কেথ উপনিষদ
            (D) মাণ্ডুক্য উপনিষদ
            উত্তর: (B) ছান্দোগ্য উপনিষদ
            ব্যাখ্যা: ছান্দোগ্য উপনিষদের অন্যতম দর্শনমূলক বাক্য ‘তত্ত্বমসি’ (তুমি সেই ব্রহ্ম), যা আত্মা ও পরমাত্মার ঐক্যের কথা বলে।


            93. বৈদিক সাহিত্য অনুসারে ‘অত্রেয়’ কে ছিলেন?
            (A) রাজা
            (B) ঋষি
            (C) বণিক
            (D) পুরোহিত
            উত্তর: (B) ঋষি
            ব্যাখ্যা: অত্রেয় ঋষি ছিলেন ঋগ্বেদের অন্যতম ঋষি, যাঁর নামে ‘আত্রেয় ব্রাহ্মণ’ নামে একটি ব্রাহ্মণগ্রন্থও রচিত হয়েছে।


            94. বৈদিক যুগে ‘কৃষি’ প্রথম কোন গ্রন্থে উল্লেখিত হয়?
            (A) ঋগ্বেদ
            (B) সামবেদ
            (C) যজুর্বেদ
            (D) অথর্ববেদ
            উত্তর: (A) ঋগ্বেদ
            ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের একাধিক স্তোত্রে কৃষিকার্য, বীজ বপন, হালচাষ ইত্যাদির উল্লেখ পাওয়া যায়, যা আর্যদের স্থায়ী জীবনের পরিচায়ক।


            95. ‘অরণ্যক’ গ্রন্থ কোন শ্রেণির পুরুষদের জন্য রচিত ছিল?
            (A) গৃহস্থ
            (B) ব্রহ্মচারী
            (C) বনপ্রস্থ
            (D) সন্ন্যাসী
            উত্তর: (C) বনপ্রস্থ
            ব্যাখ্যা: অরণ্যক অর্থ ‘অরণ্যে পাঠ্য’। এগুলো গৃহত্যাগী বনপ্রস্থ আশ্রমে প্রবেশ করা পুরুষদের জন্য, যারা ধ্যান ও দর্শনে আত্মনিবেশ করত।


            96. কোন বৈদিক গ্রন্থে প্রথম সৃষ্টিতত্ত্বের দর্শন পাওয়া যায়?
            (A) তৈত্তিরীয় উপনিষদ
            (B) নাসদীয় সূক্ত
            (C) বৃহদারণ্যক উপনিষদ
            (D) কেথ উপনিষদ
            উত্তর: (B) নাসদীয় সূক্ত
            ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের নাসদীয় সূক্তে (অস্তিত্ব ও সৃষ্টির অব্যক্ত রহস্য) বিশ্বসৃষ্টির গভীর দার্শনিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।


            97. ‘শতপথ ব্রাহ্মণ’ গ্রন্থটি প্রধানত কিসের উপর ভিত্তি করে রচিত?
            (A) রাজনীতি
            (B) যজ্ঞ প্রথা
            (C) শাস্ত্রচর্চা
            (D) অর্থনীতি
            উত্তর: (B) যজ্ঞ প্রথা
            ব্যাখ্যা: ‘শতপথ ব্রাহ্মণ’ হলো যজুর্বেদের সাথে সম্পর্কযুক্ত ব্রাহ্মণগ্রন্থ, যেখানে বিশদভাবে যজ্ঞবিধি ও অর্থবোধ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।


            98. বৈদিক যুগে ‘নিষ্ক’ কী বোঝায়?
            (A) পোশাক
            (B) কৃষিপণ্য
            (C) ধাতব মুদ্রা
            (D) সোনার অলঙ্কার
            উত্তর: (D) সোনার অলঙ্কার
            ব্যাখ্যা: ‘নিষ্ক’ ছিল সোনার তৈরি গলার অলঙ্কার, যা পরবর্তী কালে এক প্রকার মুদ্রা হিসেবেও ব্যবহৃত হয় বলে অনেকে মনে করেন।


            99. কোন উপনিষদে ‘যম ও নচিকেতা’র সংলাপ আছে?
            (A) ছান্দোগ্য
            (B) কেথ
            (C) মাণ্ডুক্য
            (D) বৃহদারণ্যক
            উত্তর: (B) কেথ
            ব্যাখ্যা: কেথ উপনিষদে নচিকেতা ও যমরাজের মধ্যে মৃত্যুর পর আত্মার গতি ও মুক্তি সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে ব্রহ্মজ্ঞানের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।


            100. ঋগ্বেদে সর্বাধিক সংখ্যক স্তোত্র কাকে উৎসর্গ করা হয়েছে?
            (A) অগ্নি
            (B) সোম
            (C) ইন্দ্র
            (D) বরুণ
            উত্তর: (C) ইন্দ্র
            ব্যাখ্যা: ইন্দ্রকে প্রায় ২৫০টিরও বেশি স্তোত্র উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি ছিলেন যুদ্ধ ও বৃষ্টির দেবতা, যাঁকে আর্যরা প্রধান উপাস্য রূপে দেখত।


            101. বৈদিক যুগে ‘সবহ’ ও ‘সমিতি’ কী নির্দেশ করে?
            (A) অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান
            (B) বিচারব্যবস্থা
            (C) ধর্মীয় আচার
            (D) রাজনৈতিক সভা
            উত্তর: (D) রাজনৈতিক সভা
            ব্যাখ্যা: সবহ ও সমিতি ছিল প্রাথমিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে রাজা ও জনগণ রাজ্য পরিচালনার বিষয়ে পরামর্শ করত।


            102. বৈদিক যুগে “বিশ” বলতে কী বোঝানো হত?
            (A) গ্রাম
            (B) পরিবার
            (C) উপগোষ্ঠী
            (D) উপজাতি
            উত্তর: (D) উপজাতি
            ব্যাখ্যা: ‘বিশ’ ছিল একধরনের উপজাতি বা সম্প্রদায়, যা রাজা দ্বারা শাসিত হতো। এর প্রধান ছিলেন ‘বিশপতি’।


            103. ঋগ্বেদে ‘ব্রহ্মণ’ শব্দের মূল অর্থ কী?
            (A) যাজক
            (B) জ্ঞানী
            (C) পণ্ডিত
            (D) স্তোত্র পাঠক
            উত্তর: (D) স্তোত্র পাঠক
            ব্যাখ্যা: প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ব্রাহ্মণ’ শব্দটি যজ্ঞে স্তোত্রপাঠ করা ব্যক্তিকে বোঝাত। পরবর্তী কালে তা একটি শ্রেণির পরিচায়ক হয়ে ওঠে।


            104. পরবর্তী বৈদিক যুগে গরু কিসের প্রতীক ছিল?
            (A) পবিত্রতা
            (B) আর্থিক সম্পদ
            (C) ধর্মীয় মূল্য
            (D) কৃষিশ্রম
            উত্তর: (B) আর্থিক সম্পদ
            ব্যাখ্যা: গরু ছিল সম্পদ ও সমৃদ্ধির প্রধান প্রতীক। গরুর দানে যজ্ঞ করা হতো, যা ব্রাহ্মণদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনীতির অংশ ছিল।


            105. বৈদিক যুগে ‘অথর্ববেদ’ মূলত কিসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?
            (A) যজ্ঞ
            (B) কাব্য
            (C) তন্ত্র, মন্ত্র ও চিকিৎসা
            (D) রাজনীতি
            উত্তর: (C) তন্ত্র, মন্ত্র ও চিকিৎসা
            ব্যাখ্যা: অথর্ববেদে দৈনন্দিন জীবনের জন্য মন্ত্র, চিকিৎসা, ভূতপ্রেত তাড়ানোর রীতি এবং গৃহস্থালির আচারবিধি বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।


            106. পরবর্তী বৈদিক যুগে ব্রাহ্মণদের প্রধান কর্তব্য কী ছিল?
            (A) রাজনীতি
            (B) শিকার
            (C) শিক্ষা ও যজ্ঞ পরিচালনা
            (D) শিল্পচর্চা
            উত্তর: (C) শিক্ষা ও যজ্ঞ পরিচালনা
            ব্যাখ্যা: ব্রাহ্মণরা ছিলেন যজ্ঞ পরিচালনার অধিকারী, এবং গুরুরূপে শিক্ষাদান ও ধর্মীয় আচারের ব্যাখ্যা দেওয়াও তাঁদের কর্তব্য ছিল।


            107. বৈদিক যুগে ‘শূদ্র’দের প্রধান ভূমিকা কী ছিল?
            (A) যুদ্ধ
            (B) যজ্ঞ
            (C) অন্যান্য বর্ণের সেবা
            (D) কৃষিকাজ
            উত্তর: (C) অন্যান্য বর্ণের সেবা
            ব্যাখ্যা: শূদ্রদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী অন্য তিন বর্ণের সেবা করাই ছিল নির্ধারিত কাজ। তারা যজ্ঞ বা শিক্ষা গ্রহণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতো।


            108. বৈদিক যুগে ‘সপ্তসিন্ধু’ কী বোঝাত?
            (A) সাতটি শহর
            (B) সাতটি নদী অঞ্চল
            (C) সাতটি যজ্ঞ
            (D) সাত রাজ্যের জোট
            উত্তর: (B) সাতটি নদী অঞ্চল
            ব্যাখ্যা: সপ্তসিন্ধু বলতে সিন্ধু উপত্যকার সাতটি প্রধান নদী অঞ্চলকে বোঝানো হত, যেখানে আর্যরা প্রথম বসতি স্থাপন করেছিল।


            109. ঋগ্বেদে নারীদের সম্পর্কে কোনটি উল্লেখযোগ্য?
            (A) নারীরা পূর্ণ অধিকারভুক্ত ছিল
            (B) নারীরা যজ্ঞে অংশ নিতে পারত
            (C) নারী শিক্ষার অনুমতি ছিল না
            (D) নারীরা শুধুই গৃহস্থালির অংশ
            উত্তর: (B) নারীরা যজ্ঞে অংশ নিতে পারত
            ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদে অনেক নারী ঋষির উল্লেখ আছে, যেমন: লোপামুদ্রা, গার্গী, ইত্যাদি। তাঁরা যজ্ঞে অংশগ্রহণ এবং মন্ত্র উচ্চারণ করতেন।


            110. ঋগ্বেদে ‘ঋতা’ ধারণা কী বোঝায়?
            (A) মুনিদের জীবনযাপন
            (B) সামাজিক শৃঙ্খলা
            (C) প্রাকৃতিক নিয়ম ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা
            (D) রাজা ও প্রজার সম্পর্ক
            উত্তর: (C) প্রাকৃতিক নিয়ম ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা
            ব্যাখ্যা: ‘ঋতা’ ধারণা ঋগ্বেদের এক কেন্দ্রীয় তত্ত্ব, যা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সত্য, নিয়ম ও নৈতিকতার প্রতীক। দেবতারা এই ঋতা অনুসরণ করতেন।

            111. ঋগ্বেদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেবতা কে ছিলেন?

            (A) অগ্নি – অগ্নিদেব হলেন যজ্ঞের দেবতা এবং পুরোহিতদের মাধ্যমে দেবতাদের কাছে আহুতি পৌঁছে দেন।
            (B) ইন্দ্র – বৃষ্টির দেবতা ও দেবতাদের মধ্যে প্রধান, অসুরদের পরাজিত করে ‘বজ্র’ দিয়ে বিজয় অর্জন করেন।
            (C) বরুণ – নৈতিকতা ও ঋত (ঈশ্বরিক নিয়ম) রক্ষা করেন।
            (D) বিষ্ণু – ঋগ্বেদে তুলনামূলক কম উল্লেখিত, তবু সূর্যদেবের রূপে পূজিত।

            উত্তর: (B) ইন্দ্র
            ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের প্রায় ২৫০টি স্তোত্র ইন্দ্রকে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি ছিলেন যুদ্ধ ও বৃষ্টির দেবতা, যিনি অসুর বৃত্রকে পরাজিত করেন।


            112. ঋগ্বেদের ভাষায় ‘চেনাব’ নদীটি কী নামে পরিচিত ছিল?

            (A) অসিক্নী – বর্তমান ঝেলম নদী
            (B) পুরুষ্ণী – বর্তমান রাবি নদী
            (C) বিতস্তা – বর্তমান ঝিলম নদী
            (D) শতদ্রু – বর্তমান শতলুজ নদী

            উত্তর: (B) পুরুষ্ণী
            ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদের সময় চেনাব নদীকে ‘পুরুষ্ণী’ নামে ডাকা হতো। এই নদীটির উল্লেখ দশরাজ্ঞ যুদ্ধের (Battle of Ten Kings) প্রেক্ষাপটে রয়েছে।


            113. ঋগ্বেদের সবচেয়ে প্রাচীন স্তোত্র রচয়িতা ছিলেন:

            (A) বিষ্ণুমিত্র
            (B) অত্রি
            (C) ভরদ্বাজ
            (D) গৃহ্যসূত্র

            উত্তর: (A) বিষ্ণুমিত্র
            ব্যাখ্যা: বিষ্ণুমিত্র ছিলেন ঋগ্বেদের প্রধান রচয়িতা ও ঋষিদের একজন। তার পরিবারে বহু স্তোত্র রচিত হয়েছে।


            114. নিচের কোন বৈদিক গ্রন্থটি মূলত ‘সঙ্গীত’ বিষয়ক?

            (A) ঋগ্বেদ
            (B) সামবেদ
            (C) যজুর্বেদ
            (D) অথর্ববেদ

            উত্তর: (B) সামবেদ
            ব্যাখ্যা: সামবেদকে ‘গীতির বেদ’ বলা হয়। এটি মূলত ঋগ্বেদের মন্ত্রসমূহকে সুর করে গাওয়ার জন্য বিন্যস্ত করেছে।


            115. নিচের কোন বেদটিকে যজ্ঞ সংক্রান্ত কর্মপদ্ধতির জন্য রচিত বলে গণ্য করা হয়?

            (A) ঋগ্বেদ
            (B) সামবেদ
            (C) যজুর্বেদ
            (D) অথর্ববেদ

            উত্তর: (C) যজুর্বেদ
            ব্যাখ্যা: যজুর্বেদে যজ্ঞ অনুষ্ঠানের নিয়মাবলি, আহুতি দেয়ার পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। এটি ‘কর্মকাণ্ডমূলক’ বেদ।


            116. বৈদিক যুগে ‘ঋত’ বলতে কী বোঝায়?

            (A) ঋতু পরিবর্তন
            (B) একধরনের সামরিক কৌশল
            (C) মহাজাগতিক ও নৈতিক নিয়ম
            (D) আধ্যাত্মিক সাধনা

            উত্তর: (C) মহাজাগতিক ও নৈতিক নিয়ম
            ব্যাখ্যা: ঋত হল প্রকৃতির ও সমাজের এক আদর্শিক নিয়ম, যা দেবতারা রক্ষা করেন। বরুণ এই ঋতের মূল রক্ষক ছিলেন।


            117. ‘গার্গী’ কে ছিলেন?

            (A) একজন ব্রাহ্মণ পণ্ডিত
            (B) একজন ঋগ্বৈদিক যোদ্ধা
            (C) একজন নারী ঋষি ও দার্শনিক
            (D) একজন সঙ্গীতজ্ঞা

            উত্তর: (C) একজন নারী ঋষি ও দার্শনিক
            ব্যাখ্যা: গার্গী বৈদিক যুগের একজন ব্রাহ্মণবাদিনী যিনি দর্শনে পারদর্শী ছিলেন এবং জনক সভায় ঋষি যাজ্ঞবল্ক্যের সঙ্গে বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছিলেন।


            118. পরবর্তী বৈদিক যুগে সামাজিক কাঠামোর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন কী ছিল?

            (A) যৌথ পরিবার ধারা বিলুপ্তি
            (B) নারীর শিক্ষার প্রসার
            (C) বর্ণব্যবস্থার কঠোরতা বৃদ্ধি
            (D) চাষাবাদ পরিত্যাগ

            উত্তর: (C) বর্ণব্যবস্থার কঠোরতা বৃদ্ধি
            ব্যাখ্যা: প্রাথমিকভাবে বর্ণব্যবস্থা পেশাভিত্তিক ছিল, কিন্তু পরবর্তী বৈদিক যুগে তা জন্মভিত্তিক ও কঠোর সামাজিক বিভাজনে পরিণত হয়।


            119. বৈদিক যুগে ‘জন’ শব্দটি দ্বারা কী বোঝানো হতো?

            (A) একটি নির্দিষ্ট গ্রাম
            (B) একটি পরিবার
            (C) একটি গোত্র বা উপজাতি
            (D) রাজা বা প্রধান

            উত্তর: (C) একটি গোত্র বা উপজাতি
            ব্যাখ্যা: জন শব্দটি বৈদিক সাহিত্যে গোত্রভুক্ত জনগোষ্ঠী বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। যেমন – পুরু জন, ভারত জন।


            120. ‘সপ্তসিন্ধু’ অঞ্চল বলতে কোন অঞ্চল বোঝায়?

            (A) দক্ষিণ ভারত
            (B) গঙ্গা দোআব
            (C) সিন্ধু ও পাঞ্জাব অঞ্চল
            (D) ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা

            উত্তর: (C) সিন্ধু ও পাঞ্জাব অঞ্চল
            ব্যাখ্যা: ‘সপ্তসিন্ধু’ বলতে সাতটি নদীর এলাকা বোঝায় — যার মধ্যে সিন্ধু, ঝিলম, চেনাব, রবি, বিয়াস, শতদ্রু ও সরস্বতী অন্তর্ভুক্ত। এটি বর্তমান পাঞ্জাব ও সিন্ধু অঞ্চল।

Related posts

Leave a Comment